কাজের ভিসা পেলেই বিদেশ যাওয়া যায় না। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পার হতে হলে প্রত্যেক কর্মীর BMET ক্লিয়ারেন্স কার্ড (আগে যাকে স্মার্ট কার্ড বলা হতো) থাকতে হয়। এই কার্ড পেতে হলে BMET রেজিস্ট্রেশন, আঙুলের ছাপ, প্রি-ডিপারচার ওরিয়েন্টেশন (PDO) এবং ক্লিয়ারেন্সের আবেদন — এই কয়েকটি ধাপ শেষ করতে হয়। নিচে প্রতিটি ধাপ সহজ ভাষায় দেওয়া হলো।
BMET কী এবং কাদের রেজিস্ট্রেশন লাগে?
BMET (Bureau of Manpower, Employment and Training) বা জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বিদেশগামী কর্মীদের তথ্য সংরক্ষণ ও বহির্গমন ছাড়পত্র দেয়। চাকরি নিয়ে বিদেশে যাওয়া প্রত্যেক বাংলাদেশিকে BMET-এ নিবন্ধন করে ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়। পর্যটক, শিক্ষার্থী বা চিকিৎসার জন্য যাওয়া যাত্রীদের এটি লাগে না।
BMET রেজিস্ট্রেশন থেকে স্মার্ট কার্ড: ৪টি ধাপ
| ধাপ | কী করতে হয় | কোথায় |
|---|---|---|
| ১. অনলাইন রেজিস্ট্রেশন | NID নম্বর, পাসপোর্টের তথ্য, চাকরি ও গন্তব্য দেশের তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলুন | BMET অনলাইন ক্লিয়ারেন্স পোর্টাল (অথবা জেলার TTC) |
| ২. আঙুলের ছাপ | বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে হয়, এটি অনলাইনে করা যায় না | জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিস (DEMO) |
| ৩. PDO প্রশিক্ষণ | ৩ দিনের প্রি-ডিপারচার ওরিয়েন্টেশন; শেষে পাসপোর্টে সিল দেওয়া হয় | নিজ জেলার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (TTC) |
| ৪. ক্লিয়ারেন্স কার্ড | যাচাই ও অনুমোদনের পর QR কোডযুক্ত ক্লিয়ারেন্স কার্ড ডাউনলোড বা সংগ্রহ | অনলাইন পোর্টাল |
গন্তব্য দেশে আগে কমপক্ষে ১২ মাস কাজ করে থাকলে PDO থেকে অব্যাহতি পাওয়া যেতে পারে। বিষয়টি নিজের জেলার TTC-তে জেনে নিন।
BMET রেজিস্ট্রেশনে যা যা লাগে
- বৈধ পাসপোর্ট (নাম অবশ্যই ভিসার নামের সাথে মিলতে হবে) ও পাসপোর্টের স্ক্যান কপি
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) — এখন NID-ভিত্তিক রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক
- কাজের ভিসা বা ই-ভিসার কপি
- ডিমান্ড লেটার বা চাকরির চুক্তিপত্র
- রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে গেলে এজেন্সির লাইসেন্স নম্বরসহ কাগজ
- ২–৪ কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- PDO প্রশিক্ষণের সনদ
👉 পাসপোর্ট সাইজ ছবি ঘরে বসেই বানাতে পারেন আমাদের Passport Photo Maker দিয়ে। পাসপোর্টে কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ আছে কিনা যাচাই করুন মেয়াদ ক্যালকুলেটরে।
BMET স্মার্ট কার্ড ফি কত?
ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে BMET ক্লিয়ারেন্স বা স্মার্ট কার্ড বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। আগের কার্ড ফি এবং সংশোধন ফি বাতিল করা হয়েছে। তাই কেউ কার্ডের জন্য আলাদা টাকা চাইলে সতর্ক হোন এবং শুধু অফিসিয়াল নির্দেশনা মানুন।
BMET স্মার্ট কার্ড চেক ও ডাউনলোড করার নিয়ম
- নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে BMET-এর অনলাইন ক্লিয়ারেন্স পোর্টালে নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
- আবেদনের অবস্থা দেখুন। অনুমোদিত হলে ক্লিয়ারেন্স কার্ড ডাউনলোডের অপশন পাবেন।
- আগে অনুমোদিত কার্ড পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে খুঁজে ডাউনলোড করা যায়। আমি প্রবাসী প্ল্যাটফর্ম এখন মূলত আগের অনুমোদিত কার্ড ও সনদ ডাউনলোডের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- কার্ডের নাম, পাসপোর্ট নম্বর, ভিসা ও নিয়োগকর্তার তথ্য মিলিয়ে নিন। ভুল থাকলে ফ্লাইটের আগেই সংশোধন করুন।
আমি প্রবাসী অ্যাপ এখন কী কাজে লাগে?
একসময় আমি প্রবাসী (Ami Probashi) অ্যাপ দিয়েই BMET রেজিস্ট্রেশন ও ক্লিয়ারেন্স করা যেত। এপ্রিল ২০২৫-এ নতুন ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়াকরণে এর চুক্তি শেষ হয়। এখন নতুন আবেদন হয় BMET-এর নিজস্ব অনলাইন পোর্টাল ও সরকারের ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। তবে আগে অনুমোদিত কার্ড বা সনদ ডাউনলোডে আমি প্রবাসী এখনো কাজে লাগতে পারে।
প্রতারণা থেকে বাঁচতে যা করবেন
- ভিসা আসল কিনা আগে যাচাই করুন: দেশ অনুযায়ী ভিসা চেক গাইড।
- রিক্রুটিং এজেন্সির BMET লাইসেন্স আছে কিনা টাকা দেওয়ার আগে দেখুন।
- মধ্যপ্রাচ্যের কাজের ভিসায় মেডিকেল রিপোর্ট অনলাইনে যাচাই করে নিন।
- সব টাকার রশিদ ও চুক্তিপত্রের কপি নিজের কাছে রাখুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
না। বৈধ BMET ক্লিয়ারেন্স কার্ড ছাড়া বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কাজের ভিসায় যাত্রীকে যেতে দেয় না।
ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে ক্লিয়ারেন্স কার্ড বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। কার্ড ফি ও সংশোধন ফি বাতিল করা হয়েছে।
সাধারণত ৩ দিনের। নিজ জেলার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (TTC) এটি করতে হয়।
নতুন ক্লিয়ারেন্স আবেদন এখন BMET-এর অনলাইন পোর্টালে হয়। আমি প্রবাসী মূলত আগে অনুমোদিত কার্ড ও সনদ ডাউনলোডে ব্যবহৃত হয়।
ফ্লাইটের আগেই অনলাইন পোর্টাল বা জেলা জনশক্তি অফিসের মাধ্যমে সংশোধনের আবেদন করুন।
1 Comment