পাসপোর্টে নামের বানান, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম বা ঠিকানায় ভুল থাকলে বিদেশ যাত্রা, ভিসা আবেদন এমনকি ব্যাংকের কাজেও ঝামেলা হয়। পাসপোর্ট সংশোধন বলতে এই ভুল বা অমিলগুলো ঠিক করাকে বোঝায়। তবে মনে রাখবেন, একবার ছাপা হওয়া পাসপোর্টে হাতে বা আলাদা করে কিছু বদলানো যায় না। সংশোধনের জন্য “Data Change” কারণ দেখিয়ে নতুন করে পাসপোর্ট রি-ইস্যুর আবেদন করতে হয়।
এই লেখায় পাসপোর্ট সংশোধন করতে কি কি লাগে, ই-পাসপোর্ট সংশোধন ফি, অনলাইনে আবেদনের ধাপ এবং নতুন নিয়মে কী সুবিধা এসেছে তা সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
নতুন নিয়মে পাসপোর্ট সংশোধন অনেক সহজ
ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী, পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর সময় মৌলিক তথ্য (নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ ও জন্মস্থান) বদলাতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্রে (NID) যে তথ্য আছে, সেই অনুযায়ী পাসপোর্ট দেওয়া যায়। অর্থাৎ আপনার NID সঠিক থাকলে আগের মতো অনেক কাগজ জোগাড়ের ঝামেলা কমে গেছে।
টিপস: পাসপোর্টের তথ্য ঠিক করার আগে নিশ্চিত হোন আপনার NID-তে তথ্যটি সঠিক আছে। NID-তে ভুল থাকলে আগে নির্বাচন কমিশনে NID সংশোধন করুন, তারপর পাসপোর্টের আবেদন করুন।
কোন কোন তথ্য সংশোধন করা যায়
| ভুলের ধরন | সাধারণত যা লাগে |
|---|---|
| নামের বানান ভুল | NID (বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্ম নিবন্ধন) অনুযায়ী সংশোধন |
| জন্মতারিখ ভুল | NID অনুযায়ী; ক্ষেত্রবিশেষে শিক্ষাগত সনদ সহায়ক কাগজ হিসেবে |
| বাবা/মায়ের নামে ভুল | NID-র তথ্য; প্রয়োজনে বাবা-মায়ের NID কপি |
| স্বামী/স্ত্রীর নাম যোগ বা বাদ | নিকাহনামা/কাবিননামা বা তালাকনামা |
| ঠিকানা পরিবর্তন | বর্তমান ঠিকানা অনুযায়ী আবেদন; প্রয়োজনে ইউটিলিটি বিল |
| পেশা পরিবর্তন | প্রয়োজনে পেশাগত সনদ বা প্রতিষ্ঠানের কাগজ |
পাসপোর্ট সংশোধন করতে কি কি লাগে
- অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট কপি (Application Summary)
- ফি পরিশোধের রশিদ বা অনলাইন পেমেন্ট স্লিপ
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) — মূল ও ফটোকপি
- অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং বাবা-মায়ের NID
- আগের পাসপোর্টের মূল কপি ও ডাটা পেজের ফটোকপি
- বৈবাহিক তথ্য বদলালে নিকাহনামা/কাবিননামা বা তালাকনামা
- সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অফিসের NOC বা GO
- প্রয়োজনে সহায়ক কাগজ: শিক্ষাগত সনদ (SSC/দাখিল বা সমমান), পেশাগত সনদ ইত্যাদি
যাদের NID বা শিক্ষাগত সনদ নেই এবং নাম বা বয়সে বড় পরিবর্তন দরকার, তাদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট অফিস হলফনামাসহ অতিরিক্ত প্রমাণ চাইতে পারে। আবেদনের আগে নিজের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের হেল্প ডেস্কে জেনে নেওয়া ভালো।
👉 আপনার অবস্থা অনুযায়ী কাগজের তালিকা বানাতে ব্যবহার করুন ই-পাসপোর্ট কাগজপত্র চেকলিস্ট জেনারেটর।
ই-পাসপোর্ট সংশোধন ফি
তথ্য সংশোধন আসলে পাসপোর্ট রি-ইস্যুর মধ্যে পড়ে, তাই আলাদা কোনো “সংশোধন ফি” নেই। নতুন ই-পাসপোর্টের যে ফি, সংশোধনেও একই ফি দিতে হয় (১৫% ভ্যাটসহ):
| পৃষ্ঠা ও মেয়াদ | রেগুলার | এক্সপ্রেস | সুপার এক্সপ্রেস |
|---|---|---|---|
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ৪,০২৫ টাকা | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা |
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ৫,৭৫০ টাকা | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা | ১২,০৭৫ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা | ১৩,৮০০ টাকা |
রেগুলার ডেলিভারিতে প্রায় ১৫ কর্মদিবস, এক্সপ্রেসে প্রায় ৭–১০ কর্মদিবস এবং সুপার এক্সপ্রেসে প্রায় ২ কর্মদিবস লাগে। বিদেশ থেকে সংশোধন করলে দূতাবাস নির্ধারিত মার্কিন ডলারভিত্তিক ফি প্রযোজ্য।
👉 আপনার জন্য কত টাকা লাগবে এক ক্লিকে দেখুন: পাসপোর্ট ফি ক্যালকুলেটর।
অনলাইনে ই-পাসপোর্ট সংশোধনের আবেদন করার নিয়ম
- অফিসিয়াল ই-পাসপোর্ট পোর্টালে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন (না থাকলে মোবাইল নম্বর ও ইমেইল দিয়ে খুলুন)।
- Apply for New Passport অপশনে যান এবং আবেদনের স্থান ও পাসপোর্ট অফিস নির্বাচন করুন।
- ID Documents ধাপে আগের পাসপোর্ট এমআরপি হলে Yes, I have a machine readable passport (MRP), আর ই-পাসপোর্ট হলে Yes, I have Electronic Passport (ePP) বেছে নিন।
- রি-ইস্যুর কারণ হিসেবে Data Change নির্বাচন করুন এবং আগের পাসপোর্টের নম্বর ও তারিখ লিখুন।
- সংশোধিত তথ্য NID অনুযায়ী লিখুন। বানান দুইবার মিলিয়ে নিন।
- পৃষ্ঠা, মেয়াদ ও ডেলিভারির ধরন বেছে নিয়ে ফি দিন এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।
- নির্ধারিত দিনে আবেদনের প্রিন্ট, পুরনো পাসপোর্ট ও সহায়ক কাগজ নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক দিন।
👉 আবেদন জমার পর অবস্থা দেখুন: ই-পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম। ডেলিভারি স্লিপ হারালে পড়ুন ডেলিভারি স্লিপ হারিয়ে গেলে করণীয়।
আবেদনের আগেই ভুল হলে কী করবেন
অনলাইন আবেদন জমা দেওয়ার পর কিন্তু বায়োমেট্রিকের আগে ভুল ধরা পড়লে, অফিসে গিয়ে কর্মকর্তাকে জানান। প্রয়োজনে আবেদন বাতিল করে নতুন করে আবেদন করতে পারেন।
👉 কীভাবে বাতিল করবেন জানুন: ই-পাসপোর্ট আবেদন বাতিল করার নিয়ম।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
আলাদা সংশোধন ফি নেই। রি-ইস্যুর সাধারণ ফি দিতে হয়: ৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর, রেগুলারে ৪,০২৫ টাকা থেকে শুরু করে ৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর, সুপার এক্সপ্রেসে ১৩,৮০০ টাকা।
হ্যাঁ। নতুন নিয়মে রি-ইস্যুর সময় নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ ও জন্মস্থান বদলালে NID-র তথ্য অনুযায়ী পাসপোর্ট দেওয়া যায়।
ডেলিভারির ধরন অনুযায়ী সাধারণত ২ থেকে ১৫ কর্মদিবস। তথ্য যাচাইয়ে সমস্যা হলে সময় বেশি লাগতে পারে।
অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ, বাবা-মায়ের NID এবং আগের পাসপোর্ট লাগে। জন্ম নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী সংশোধন হয়।
সাধারণত রি-ইস্যু বা সংশোধনে পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না, যদি তথ্য NID-র সাথে মিলে যায়।